রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৭:৫২
শিরোনাম :
বিএমপি’র বন্দর থানায় মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে ওসি সনজিত চন্দ্র নাথ বরিশালে ফিরোজ ও এনায়েতের নেতৃত্বে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএম কলেজে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ বিএম কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন কলেজে আলোচনা সভা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে

বিধবাকে জমি বিক্রিতে বাধ্য করতে চলাচলের পথ বন্ধ

শামীম আহমেদ  স্বামীর মৃত্যুর পর ১২ বছর পূর্বে ছোট ছেলের কষ্টার্জিত আয় দিয়ে বরিশাল নগরীর সিকদারপাড়ায় সোয়া এক শতাংশ জমি ক্রয় করেন বিধবা ফরিদা বেগম। এরপর সেখানে ছোট একটি ঝুপড়ি টিনের ঘরে বসবাস করছিলেন বিধবা ফরিদা বেগম ও তার সন্তানরা। এতে করে মাস শেষে বাড়ি ভাড়ার চিন্ত ছিল না থাকায় তিন বেলা কোনভাবে খেয়ে দিন চলে যাচ্ছিল মৃত সোহরাব সিকদারের পরিবারের সদস্যদের।

৫ মাস পূর্বে মৃত সোহরাব সিকদারের ছোট ছেলে জুনায়েদ সিকদার তাদের ক্রয়কৃত জমিতে টিনশেড ঘর তোলার জন্য ইট ও বালু এনে কাজ শুরু করে। কিন্তু তা কোনভাবে সহ্য করতে পারছিল না জমি বিক্রয়দাতা একই এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ সিকদার। সে কোনভাবেই তাকে সেখানে ঘর উত্তোলণ করতে দেবে না। এ জন্য কাজ শুরুর পর থেকে বাধা দিয়ে আসছে ইউসুফ সিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর ঘর উত্তোলনের জন্য সেখান থেকে জুনায়েদ পরিবার-পরিজনসহ নেমে যাওয়ার সুযোগে চারিদিকের সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি ওই জমি বিক্রিতে চাপ দেয়া হচ্ছে।

বর্তমানে সবমিলিয়ে জমির মূল্য ১০ লাখ টাকা থাকলেও ইউসুফ সিকদার ওই জমি বাবদ জুনায়েদকে মাত্র ৩ লাখ টাকা নিয়ে সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এমনকি জুনায়েদের ক্রয়কৃত জমিতে যাতে সে যেতে না পারে এ জন্য জমির চারিদিকে অস্থায়ী ঘরও উত্তোলন করছে ইউসুফ সিকদার।

এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও তার কথাও শুনছেন না ইউসুফ সিকদার। এদিকে ছোট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকায় এখন ওই ভাড়া গুনতে গিয়ে তিনবেলা খাবার নিয়ে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন ওই পরিবারটি। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখলেও ইউসুফ সিকদার ও তার ছেলে ফারুক সিকদারের সন্ত্রাসী ভ‚মিকার কারনে তারাও কিছু বলতে পারছেন না।

বিধবা ফরিদার বেগম তার ছেলের জমি উদ্ধারে মেয়র থেকে শুরু করে পুলিশ কমিশনার ও র‌্যাবের কাছে আবেদন-নিবেদন জানিয়েছেন। এদিকে ওই জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে ইউসুফ সিকদারের ছেলে ফারুক হতদরিদ্র জুনায়েদকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। ফারুকের সাফ কথা তোকে (জুনায়েদ) মেরে ফেললে কিছুই হবে না।

এ ব্যাপারে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেহেদী পারভেজ আবির বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউসুফ সিকদারকে ডেকে মীমাংসার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এমনকি ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ইউসুফ সিকদারের মোবাইলে কল দেয়া হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।